একগুচ্ছ কবিতা

১.
মনরাজ্য
নিজকে যখন হারিয়ে ফেলি
নিজের দেশে এসে
মন গগনে উড়ে চলি
মেঘের ভেলায় ভেসে।
আপন মনেই ভাবতে থাকি
ভাবনা যত আছে
মনের কথা চাঁদকে বলি
লক্ষ তারার কাছে।
মন সাগরের ঢেওয়ের সাথে
তালমিলিয়ে নাচি
উদাস আমি ছুটতে থাকি
তীরের কাছাকাছি।
অতল জলে হারিয়ে যায়
ধ্যানে বিভোর হলে
মনরাজ্যে মনই রাজা
মনের কথাই চলে।
২.
ইচ্ছে মত
উঠতে পারিস, ছুটতে পারিস
বলতে পারিস কথা
চলতে পারিস ইচ্ছে মত
এটাই স্বাধীনতা।
বলবি কথা ইচ্ছে মত
যাহা আসে মুখে
ভাগ করে নিজ বুকের ব্যথা
থাকিস সুখে দুখে।
৩.
দামাল ছেলে
দামাল ছেলে আয়রে ছুটে
অনেক বাকি কাজ
পথের বাঁধা রুখতে হবে
ছুটতে হবে আজ।
আর রব না একলা ঘরে
প্রাণ সপেছি দেশের তরে
দেশকে ভালবেসে মোরা
জীবণ দেব উজাড় করে।
৪.
কোথায় খোকা
দুর আকাশে মেঘ করেছে
বৃষ্টি এল বুঝি
বৃষ্টি মাথায় কোথায় খোকা
খোকাটারে খুজি।
সাত সকালে বের হয়েছে
দুরের মাঠের পানে
বৃষ্টি মাথায় কোথায় খোকা
মায়ের মন না মানে।
৫.
মেঘের দেশে
সাদা মেঘের দেশে যাব
হাওয়া্ই ভেসে ভেসে
মেঘের সাথে নাচবো আমি
উঠবো মেতে হেসে।
মেঘের দেশে ঘুরবো আমি
খেলবো মেঘের সাথে
গল্প হবে, আলাপ হবে
গান ও কথাতে।
৬.
বৃষ্টি ভেজা দেশে
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ে
আমার ঘরের চালে
বৃষ্টি পড়ে সকাল বিকাল
দুপুর রাত্রিকালে।
বৃষ্টি পড়ে পড়তে থাকে
দক্ষিণ হাওয়ার ভেসে
বৃষ্টি পড়ে অহর্নিশি
বৃষ্টিভেজা দেশে।
৭.
বৃষ্টি পড়ে
বৃষ্টি পড়ে পথে ঘাটে
বৃষ্টি পড়ে নদী মাঠে
বৃষ্টি পড়ে গাছের তলে
বৃষ্টি পড়ে পুকুর জলে।
বৃষ্টি পড়ে পাতায় পাতায়
বৃষ্টি পড়ে খোকার ছাতায়
বৃষ্টি পড়ে দিনে রাতে
বৃষ্টি পড়ে রোদের সাখে।
৮.
ভালবাসি
ভালবাসি মাকে আমি
ভালবাসি দেশটা
দেশের লাগি সপেছি প্রাণ
আমার যত চেষ্টা।
এদেশ আমার প্রাণের প্রিয়
আমার ভালবাসা
এই মাটিতেই জন্ম আমার
বেঁচে থাকার আশা।
৯.
পথ নিবাসী আর্ত
পথের ধারে রয় সে পড়ে
নষ্ট খাবার আহার করে
বয়স বার মাত্র
কষ্টটা'ই জীবণ সাথি
কষ্ট করে দিবা-রাতি
উলঙ্গ রয় গাত্র।
ময়লা-বাসি পচা খাবার
এসব না কি আহার যে তার
জীবণ বাঁচন স্বার্থ
জন্ম থেকেই পথের ধারে
পথেই কেঁদে হাহাকারে
পথ নিবাসী আর্ত।
১০.
মন বলে
মন বলে পাখি হব
ডানা মেলে উড়তে
ইচ্ছে হলে দু'চোঁখ মেলে
মুক্ত মনে ঘুরতে।
খুজতে গিয়ে পরীর বাড়ি
মেঘের দেশে দেব পাড়ি
আকাশ পানে থাকব আমি
স্বপ্ন দেখি তার'ই।
চাঁদের কাছে ছুটে গিয়ে
জ্যোৎন্সা গুলো লুটে নিয়ে
খেলব মজা করে
রুপকথার রাজা আমি
মুক্তা-মণি থাকবে দামি
সাজবো প্রাণ ভরে।
১১.
দাঁতের মর্ম
.
দাঁত দেখে কেও করিস নে ভয়
দাঁত মেলে'ই তো হাসতে হয়!!!
দাত দিয়ে সব চাবিয়ে খাই
রাগ দেখিয়ে দাঁত খিছাই।
করবো ডাকি? দাঁত না মেলে
নেই অভিমান, রেগে গেলে।
বকতে হবে দাঁত মেলিয়ে
হাসতে হবে দাঁত কেলিয়ে।
রাগিস না ভাই কেউ
দাঁত দেখে যে ভয়ে মরে
দন্তহীনা সেও।
খুনতি আছে, হাতল আছে
কোদাল আছে দাঁতে
এ সব কিছু ফেল মারিবে
বোকড়া দাঁতের সাথে।।
আমরা সাবাই দাঁত মেলিয়ে
খিলখিলিয়ে হাসি
দাঁতের প্রেমে পাগল হয়ে
দাঁতকে ভালববাসি।।।
১২.
ফিরছি এবার বাড়ি
মন যখনি কাঁদতে থাকে
একলা বসে ঘরে
হৃদয় যখন ব্যথায় মাতে
পরান ক্যমন করে।
তখন মাগো তুমি এসে
গায়ে দিলে হাত
সব ভুলে যায় বেদনা যত
যাতনা আঘাত।
তোমার কোলে মাথা রেখে
সুখের নিশ্বাস ছাড়ি
ভালবেসে মাগো তোমায়
ফিরছি এবার বাড়ি।
১৩.
আয়রে নবীন
হার না মানা সোনার ছেলে
দেখ চেয়ে দেখ নয়ন মেলে
সোনালি দিন চোখ মেলে রয়
করিস না আর ভয়।
ক্লেশ তুফান যতই আসুক
রুখতে হবে বুক পেতে দুখ
আনতে বিজয় আমরা দামাল
ছিনবো বাঁধার জাল।
আয় ছুটে আয়, আয়রে নবীন
হাতছানি দেয় সোনালী দিন
নবীন ঊষা আনবো ডেকে
চলবো ছুটে স্বপ্ন মেখে।
১৪.
কই আছে, মা কই আছে
রই দুরের এই বদ্ধ ঘরে
বড্ড তোমায় মনে পড়ে
দুর সুদূরে তোমার বাড়ি
রয় হৃদয়ে ভাবনা তার'ই
কই লুকিয়ে মুখ যে তোমার!
হৃদয় কাবায় খোজ করি তার।
ছোট্ট ছেলে দুর সুদূরে
তোমার লাগি মন পুড়ে
উদাস আমার মন যাচে
কই আছে, মা কই আছে!!
১৫.
ভাবুক আমি
ভাবতে থাকা ভাবুক আমি
ভাবতে থাকি সব ভুলে
আনমনে কখনও গান
গেয়ে উঠি সুর তুলে।
পাহাড় দেখি, সাগর দেখি
পাখি দেখি চোখ মেলে
আকাশ দেখি, চাঁদকে দেখি
তারা গুনি কাজ ফেলে।
১৬.
ভয় কি নবীন
তরুহীন মরু, দূর্গম পথ
ক্ষয় কি মনোবল!
জীবণ যুদ্ধে আমরা অটুট
আমরা তরুন দল।
নবীন ঊষা আনবো ডেকে
আধার দিয়ে রুখে
শক্তি, সাহস, স্বপ্ন গুলো
আকড়ে ধরে বুকে।
আমরা অটুট, শক্ত হাতে
রুখতে মরু ঝড়
ভোরের হাওয়া অানতে মোরা
বদ্ধপরিকর।
ভয় কি নবীন, ভয় কি তরুন!
নিভলে জীবন তরী
আমরা তরুন, ভয় করি না
যুদ্ধে যদি মরি।
১৭.
***সব যে এককার***
কহ হে কথা, রহ না নিরব
মৌন রেখো না মুখ
শান্ত তুমি! ছুটছে সবে
কি-বা মনে দুখ?
শান্ত আকাশ, শান্ত জীবণ
বন্দী আমি ঘরে
পুরানো দিনের সব স্মৃতিদের
আজিকে মনে পড়ে।
শান্ত তুমি! শান্ত আকাশ!
আজব যত বুলি
মর্মে নিলে বিষাদ তুলি
স্বপ্ন গুলি ভুলি।
স্বপ্ন কোথা? বিষাদ কোথা?
সব যে একাকার
এমনি জীবণ, এটাই তো সুখ
বলব যে বারবার।

দেখতে পারেন

No comments