অমরত্বের খোজে মগস্টাডি (দ্বিতীয় পর্ব)

Related image
দুই.
এতদিনে মস্তিষ্ক সম্পর্কে বইয়ে কিংবা ভিডিও দেখে যতটুকু জেনেছে তা যথেষ্ট নয়। যদিও মিনা এ বিষয়ে আমাদেরকে অনেক বেশি হেল্প করেছে। কিন্তু মিনাও নতুন সমস্যাগুলোর খুব বেশি সমাধান দিতে পারছে  না। আমাদেরকে মানব মস্তিষ্ক সম্পর্কে আরও অনেক বেশি জানতে হবে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমরা সরাসরি মানব মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করতে পারছি না। আর এটাই আমাদেরকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌছে দিবে না। কাজেই আজকের মিটিং এ একটা সিদ্ধান্তে আসা জরুরি।
মগস্টাডি টিম হটাৎ একটা মিটিং এর ডাক দিয়েছে। মিটিং এর শুরুতেই রাহুল কথাগুলো বলে ফেলল।
হটাৎ ওরা খুব বাজে একটা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ে গেছে।
ওদের মগস্টাডি ল্যবটা একেবারেই সিম্পিল। এই ল্যবে প্রথম দিকে কয়েকটি কম্পিউটার, কিছু যন্ত্রপাতি, কিছু কম্পিউটার হার্ডওয়ার এগুলোই আছে।
কিন্তু  মগস্টাডি টিমের জন্য এটা যথেষ্ট না।
মগজকে পরীক্ষা করার জন্য সত্যিকারের মগজ বাধ্যতা মূলক। কিন্তু মগস্টাডি ল্যব স্বীকৃত কোন ল্যব না। কাজেই এই ল্যবে মগজ তথা মাথা নিয়ে গবেষণা করা একে বারেই অসম্ভব। আর সেই উপলক্ষ্যেই আজকের মিটিংটি।
মগস্টাডি টিম যে কোন ভাবে এই সমস্যার সমাধান চাই। অন্যথায় তাদের তাদেও গবেষণাটি সাফল্যের দরজায় প্রবেশ করতে পারবে না।
রাহুলের বক্তব্যের পর উপস্থিত মগস্টাডি টিম কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করল। কারও মাথায় যেন কিছু আসছে না।
হটাৎ  রুবেল বলে উঠল-
আমরা সবাই আমাদের এক্সিপ্রিমেন্ট সম্পর্কে ভালভাবেই জানি। আমরা মানব মস্তিষ্ককে পড়তে চাই। আর এটার জন্য সব থেকে গুরুত্ব পূর্ণ হল মস্তিষ্ককে জানা। আর সেটা বই পড়ে কিংবা অন্যভাবে অর্জিত জ্ঞান নয়। বরং আমাদেরকে অবশ্যই প্রাক্টিক্যল জ্ঞান দরকার।
রুবেলকে থামিয়ে দিল মিলন-
হুমম, ঠিক বলেছিস। প্রাক্টিক্যাল জ্ঞান প্রয়োজন। আর প্রাক্টিক্যাল জ্ঞানের জন্য সরাসরি মস্তিষ্ক লাগবে।
-কিন্তু মস্তিষ্ক জোগাড় করা কোন ভাবেই সম্ভব না।
-আমরা এই কথা গুলি প্রথম থেকেই বলে আসছি। কিন্তু এটা কোন সমাধান না।
-তাহলে সমাধান আসলে কি!
-শোন, মানুষের অঙ্গ নিয়ে আমরা প্রথম গবেষণা করছি না। পৃথিবীতে বহুলোক আগেও এগুলো নিয়ে গবেষণা করেছে।
-করেছে। কিন্তু কেউ এখনও মগজ স্টাডি করতে পারেনি।
-সেটা ঠিকই। তবে আমরা তাদের কাছ থেকে ছোট-খাট হেল্প নিতে পারি।
-ঠিক কি ধরনের হেল্পের কথা বলছিস তুই?
-এই যে ধর, হেড ট্রান্সপ্লান্টের জন্য মানুষ প্রথমে ইঁদুরের মাথাকেই বেছে নিয়েছিল। কেন জানিস?
-সেটা তো সবাই জানে। ইঁদুরের মাথা নিয়ে গবেষণ করতে গেলে কয়েকটা জটিলতা এড়ানো সম্ভব। যা মানুব মস্তিষ্ককে নিয়ে করা সম্ভব না।
-হুমম, মনে হয় বুঝতে পেরেছিস। শোন সবাই, আজকে আমরা চাইলেই কিন্তু একটা জ্যন্ত মানুষকে এই গবেষণাগারে নিয়ে আসতে পারি না। কারন, আমাদের গবেষণায় তার মৃত্যু হতে পারে। যেটা রাষ্ট্রিয়ভাবে এটা বেআঈনি।
-কিন্তু আমরা চাইলেই একটা ইঁদুর, বিড়াল কুকুর এদেরকে নিয়ে গবেষণা করতে পারি।
-হুম, একেবারেই ঠিক বলেছিস।
-চল আমরা একটা বিড়াল ধরে নিয়ে আসি। আমার মনে হয় বিড়ালকে দিয়ে কাজটি সহজেই করা যাবে।
যেই ভাবনা, সেই কাজ। রাহুল ধরে নিয়ে আসল একটা বিড়াল।
সাদার উপর কালো কালো দাগ, এই বিড়ালটিকে নিয়েই গবেষণা। গবেষণার জন্য হয়তো এটাকে নিয়ে ব্যবচ্ছেদ করা হবে। গবেষণার এক পর্যায়ে হওতো এটি মারাও যেতে পারে।
এগুলো নিয়ে মন খারাপ করে না মগস্টাডি টিম। গবেষণার প্রয়োজনে যদি এটা করতে হয় তবে ক্ষতি কি! অনার্থক কিছু তো তারা করছে না।
বিড়ালটিকে হাতে নিল মিজান। কাটাকাটিতে বেশ দক্ষতা আছে ওর।







No comments