অমরত্বের খোজে মগস্টাডি (প্রথম পর্ব)

Related image
এক.

ডিভাইসটি রাহুল তৈরি করবেই। অবশ্য রাহুলের একার পরিকল্পনা নয় বরং ওর ফ্রেন্ড সার্কেলের মুটামুটি সবাই মিলেই এটা করবে।

কিন্তু আইডিয়াটা রাহুলের। আবার রাহুলই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেতে চায়।  যদিও এই প্রোজেক্টের কোন কাজই ছোট অথবা কম কষ্টের নয়।

প্রথম থেকেই ওরা একটা নাম ঠিক করে রেখেছিল। সেই নামেই ওদের প্রোজেক্ট। আর ডিভাইসটাও ঠিক একই নামে। নামটা খুব অদ্ভুত। রাহুলের বন্ধু রাজনের প্রস্তাবেই এই নামটি।

প্রোজেক্টের এই নামটা  ঠিক করতে গিয়ে তো ওদের কম বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি!

কত মাথা ঘামানো, কত চিন্তা-ভাবনা। মুটামুটি নাওয়া খাওয়া তো একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছিল। হটাৎ করে রাজন প্রস্তাাবটা দিয়ে বসল।

মগস্টাডি! অদ্ভুত এই নামটার আবার ব্যাখ্যাও আছে। একটু বিস্তারিত বলি-

ওদের প্রজেক্টটা হচ্ছে মানুষের মনের ভাষা বোঝা। আর এটা বহু আগেই প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষের মন থাকে মগজে। কাজেই মগজ কি ভাবছে বা কি করছে সেটাই হচ্ছে তার মনের ভাষা। সুতরাং এই ভাষাটা পড়াই হচ্ছে রাহুলদের মুল লক্ষ্য।

রাজনের প্রস্তাব অনুযায়ী তারা তো মগজের ভাবনাগুলিই পড়তে চাচ্ছে। অর্থাৎ মগজকে স্টাডি করতে চাচ্ছে। সেখান থেকেই মগজস্টাডি নাম। আর একটু ছোট করে এটাকে বানিয়ে দিল মগস্টাডি।

দশ সদশ্য বিশিষ্ট কমিটি এই নামটাকে বেশ সানান্দে  গ্রহন করল।

তারপর থেকেই মগস্টাডির প্রোজেক্টে নেমে পড়ে ওরা।

যন্ত্র কৌশলের ছাত্র রাজনের দায়িত্ব পড়ল হার্ডওয়্যারের।

রুবেলের দায়িত্ব প্রোগ্রাম তৈরি করা। ও কম্পিউটার  টেকনোলজির ছাত্র।

রাহুল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র। ও দুইটার সমন্বয়ের দায়িত্ব নিল ।

মিনা মেডিকেলে পড়ছে। মানব মস্তিষ্কের উপর ওর জ্ঞান অনেক বেশি, ওকে দায়িত্ব দেওয়া হল মস্তিষ্কের  সিংন্যাল বোঝার। কথা বলা, লেখা বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে মানুষ সাধারনত মনের ভাব  প্রকাশ করে। এই আউটপুট গুলো ছাড়াও মস্তিষ্কে ভাষা অন্য কোন ভাবে জানা যায় কি না সে দায়িত্বও মিনা নিয়েছে।

অবশ্য এই দায়িত্ব ওর একার না। সাইকোলজির ছাত্র মিলনও প্রায় একই কাজে নিয়োজিত। মিলন  তো রীতিমত মানুষের মন পড়তে পারে। কাউকে দেখে তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বললে ও অনেক কিছুই বুঝে যায়। মানুষটি কি ভাবছে পটপট করে বলে দেয় ও।
এইতো সে দিন রুবেল এসেছিল ওর কাছে। প্রিয় ফোনটি হারিয়ে রুবেল একটু বিষন্ন হয়ে পড়েছিল বটে। তারপরও স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছিল। রুবেল চাইছিল না, মিলনকে ব্যপারটা এত সহজে জানাতে।

কিন্তু লাভ হল না।

মিলন ঠিকই সব কিছু বুঝে গেল।

একপর্যায়ে রুবেলের হাতটি ধরে ফেলল মিলন।

-মন খারাপ করিস না বন্ধু। মোবাইল হারিয়ে গেছে তো কি হয়েছে। আর একটা কিনে নিস।

রুবেল চমকে উঠল। ব্যপারটা মিলন কি করে জানল!

সে যায় হোক, তারপর থেকেই কিন্তু মিলন বন্ধু মহলে মনোবিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে লাগল। প্রায়ই ও কারো না কারো মনের কথা বলে দেয়।

আরও কয়েকজন বন্ধুকে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিল। তাদের মধ্যে রফিক, রিমু, কায়েশ ওরা যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ আর পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।

তারপর থেকে শুরু হল মগস্টাডি টিমের অভিযান। রাহুদের বিল্ডিং এর নিচে একটা ফ্লাট কিছুদিন যাবৎ ফেলে রাখা আছে। ওটাই মগস্টাডির ল্যবে পরিণত হল।

নাওয়া খাওয়া সব কিছু বন্ধ হয়ে গেল এই টিমের। সব সময় নতুন নতুন ভাবনা আর নতুন পরিকল্পনা। কোন না কোন ভাবে আবার সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়াটাও খুব স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে দােিয়ছে। তারপরও নতুন কিছু মাথায় এলেই ওরা নতুন কজে জেগে উঠতে লাগল। আর এভাবেই পেরিয়ে যেতে থাকল দিন রাত।
ভুলে গেল ওরাও মানুষ।

আহার-নিদ্রা সবকিছুই মগস্টডি ল্যবে। সমাজ থেকে আলাদা হয়ে গেল কিছু দিন।  আর এভাবেই চলতে থাকল মগস্টাডির কর্মকান্ড।

No comments