মগভাইস
বিশাল আকৃতির দানবটি নিষাদের মাথার কাছে এসে দাড়াল। চারপাশে
আরও বেশ ক’জন। এক মুহূর্তের জন্য কিছু বুঝে উঠতে পারছে না নিষাদ। চারপাশে চোখ বুলাতে
লাগলো। কয়েকটি ছায়ামূর্তি, তারপর বিশাল দেওয়াল।
নাহ! এটা তার রুম হতে পারে না। দেওয়ালের পাশের সোফা, ড্রেসিং
টেবিল, আলমারি কোন কিছুই নেই। তাহলে সে এখন কোথায়! ভীষণ ভয় পেল নিষাদ। উঠে দাড়াতে চাইলো,
পারলো না। কালো একটা হাত ওর ছোট্ট দেহটাকে ধরে ফেলল। কেবল ছটফট করতে লাগলো। চিৎকার
করতে চাইলো, গলাদিয়ে সামান্য আ-উ-উ-উ ছাড়া আর কিছুই বের হল না।
এভাবে বেশিক্ষণ সংগ্রাম করা লাগলো না। মাথার কাছে দাড়িয়ে
থাকা দানবটা ওর শরীরে কি যেন একটা পুষ করলো। মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত শরীর অবশ হয়ে গেল।
এখনও অদ্ভুত ভাবে কয়েকটা ইন্দ্রিয় কাজ করছে। নিষাদ দানবগুলোর
ফিসফিসানি স্পস্ট শুনতে পাচ্ছে। আপছা আলোতে বেশ দেখতে পাচ্ছে। ওদের ভাষা কেমন আজব।
কিছুই বোঝার উপায় নেই।
দানবদের লিডার এবার রুমে প্রবেশ করলো। সাথে সাথে রুমের
সবগুলো লাইট অন হয়ে গেল। নিষাদ এবার স্পস্টই দানবগুলোর মুখ দেুখতে পেল। কিছুটা মানুষের
মতই। কিন্তু এরা ভিন্ন জাতের মানুষ। নিষাদের মত সাধারন মানুষের থেকে অনেক বেশি ব্যবধান।
লিডার গোছর মানুষটি এবার নিষাদের দিকে এগিয়ে আসলো। হটাৎ
কথা বলে উঠলো দানবটি, “ভয় পেওনা নিষাদ, ইস্টিনিউ ছায়াপথের একটা গ্রহে আমরা থাকি। কিছুদিন
আগে তোমাদের যে বিমানটি নিখোজ হয়ে গেছিলো সেটাকে ওই গ্রহের কিছু অদ্ভুত প্রাণী এসে
দখল করে নিয়েছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা আমাদেরকে বন্দি করে ফেলে। তারপর, আমাদের
মস্তিষ্কে শুরু হয় অপারেশন। ভীনগ্রহবাসিদের তৈরি অত্যাধুনিক প্রোগ্রাম সমৃদ্ধ একটা
ডিভাইস মাথার ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়। ঠিক যেই জায়গাটিতে মগজ ছিল, এখন সেখানে জাইগা নিয়েছে
ইলেকট্রনিক ডিভাইজ। তবে এই ডিভাইজটি পৃথিবীতে তৈরি সাধারন ডিভাইজের মত নয়। এটি প্রথম
আমাদের মস্তিষ্কের সমস্ত কর্মকান্ড রেকর্ড করে, জমিয়ে রাখা স্মৃতিগুলোর একটা কপি নেই
এবং অভিজ্ঞতা গুলোকে সংরক্ষন করে। ফলশ্রুতিতে মগজের স্থানে এই ডিভাইজটা প্রতিস্থাপন
করলেও তেমন কোন প্রভাব পড়ে না। তবে কিছু হরমনের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়, ফলাফল হিসাবে
আকৃতি, আচরন অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে পড়ে। তাছাড়া মগজ যেমন কোষ দিয়ে তৈরি এই ডিভাইজটা
ঠিক তেমন না। কোষের ন্যয় সহজে অকেজো হয়ে পড়ে না এবং প্রতিস্থাপন পদ্ধতি অনেক বেশি সহজ।
আমরা এখন চাইলেই নিজের মগজ, ডিভাইজের মাধ্যমে নিজেই পতিস্থাপন করতে পারি। আমরা এই ডিভাইজটির
নাম দিয়েছি মগভাইজ”
বলতে বলতেই দানবটি তার মাথার খুলিটা একটা টান মেরে খুলে
ফেললো। মাথার খুলির ভিতর থেকে বেরিয়ে এল ইলেকট্রনিক্স মগজ ডিভাইজটি। হাটুর সাথে লাগানো
ব্যগ থেকে আর একটা মগভাইজ বের করে দানবটি নিজের মস্তিষ্কে বসিয়ে দিল। এবং পাশের মগভাইজটি
মস্তিষ্ক থেকে খুলে সেটি ব্যগটিতে রাখলো।
”আমরা তোমাকে দিয়ে
এই প্রজেক্টটা শুরু করবো । আমরা সফল হলে তুমিও আমাদের মতই বিশাল আকৃতির মানুষ
হতে পারবে। আমাদের অভিযান এখন পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের মস্তিকের পরিবর্তে মগভাইজ
স্থাপন করা। আর এই অপারেশনে তুমিই প্রথম”
নিশাদের দুচোখ বেয়ে অঝরে অশ্রু ঝরতে লাগলো। একটু পর ওর
অপারেশন। যদি এই অপারেশন ব্যর্থ হয় তাহলে মৃত্যু নিশ্চিত। আর যদি সফল হয় তাহলে মস্তিষ্কের
পরিবর্তে স্থান পাবে একটা ডিভাইস। এরপর হয়তো ও আর মানুষ থাকবে না। কিংবা হয়তো ওর আর
কোন অনুভুতি থাকবে না।
লিডার দানবটি এবার হাতের কাছে কি একটা পুষ করলো। নিশাদের
মাথাটা কেমন যেন হালকা হয়ে আসলো। সারা শরীল ভীষণ ঠান্ডা হয়ে উঠলো। নিষাদ বুঝতে পারলো
ও জ্ঞান হারাচ্ছে, কিংবা মারা যাচ্ছে।
No comments