রোবট ধারনা
রোবট হলো যান্ত্রিক কৃত্রিম কার্যসম্পাদক। রোবট সাধারণত একটি ইলেক্ট্রো-যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যার কাজকর্ম,অবয়ব ও চলাফেরা দেখে মনে হয় এটি স্বেচ্ছায় কাজ করছে। পূর্ব ইউরোপের স্লাভেনিক ভাষায় “রোবটা (Robota)” শব্দের অর্থ হলো দাসত্ব। এই “রোবটা” থেকেই ইংরেজিতে “রোবট (Robot)” শব্দটি এসেছে। ইউরোপিয় লেখক কারেল চাপেক “আর-ইউ-আর” নাটকে “রোবট” শব্দটি ব্যবহার করেন “যন্ত্রদাস” বা “যান্ত্রিক ক্রীতদাস” অর্থে।
রোবটের ইতিহাস জানতে গেলে চলে যেতে হয় প্রাচীন রুপকথা আর মনীষীদের অনেক কার্যকলাপের পেছনে। রোবট নিয়ে আধুনিক ধারনা আসে শ্রমশিল্পের বিপ্লব ঘটার পরে। যখন জটিল যন্ত্রপাতির ব্যাবহার শুরু হয়ে যায় এবং পরবর্তীকালে বিদ্যুৎ শক্তির আবির্ভাবের ফলে পাওয়ার মেশিন কিছু ছোট ছোট কমপ্যাক্ট মোটর এর সাহায্যে চালানো সম্ভব হয়। ১৯২০ সালের পরে মানব চালিত যন্ত্রগুলো এতো উন্নতি সাধন করে যে মানুষের সাথে সমতুল্য রোবট বানানর বিবেচনা করা হয়। যার চিন্তাশক্তি ও কর্মক্ষমতা একটা মানুষের সমানেই থাকবে। প্রথম যে রোবট ব্যাবহার শুরু হয় তা হল ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট। সহজ কিছু নির্দেশনা দেয়া হত এবং রোবট সেভাবেই কাজ করতো কোন পণ্য উৎপাদন,মেরামত এর ক্ষেত্রে।তাদেরকে নিওন্ত্রন করা হত ডিজিটাল ভাবে। কৃত্তিম মেধা সম্পন্ন রোবট বানানর কাজ শুরু হয় ১৯৬০ এর পরে। চাইনিজ ইতিহাসে রয়েছে যে দশ শতক এর দিকে ইয়ান শী নামক একজনকে মর্যাদা দেয়া হয় একটি স্বয়ংক্রিয় মানব তৈরির জন্য লাই জি টেক্সট এ। পূর্ব এবং পশ্ছিমাদের কৃত্তিম কৃতদাস এবং সহযোগী থাকার ইতিহাস রয়েছে। যেমন গ্রিক দেবতা হেফাস্তাস কৃত্তিম কৃতদাস তৈরি করার ইতিহাস রয়েছে।লিয়াদ জাতির মতবাদ রয়েছে যে রোবটিক্স এর ধারনা এসেছে হেফাস্তাস এর কৃত্তিম যন্ত্রমানব বানানো থেকেই। ৪০০ শতকের দিকে গ্রিক গনিতবিদ আরকিতাস একটি যান্ত্রিক কবুতর আবিষ্কার এর জন্য বিশেষ সুনাম ছিল বলে ধারনা রয়েছে। আলেক্সজান্দারিয়া এর হিরন প্রথম শতকে কিছু যন্ত্রপাতি আবিষ্কার এর ধারনা রয়ে গেছে এর ভেতরে একটি যন্ত্র কথা বলতে পারতো। এরিস্টটল তার পলিটিক্স বই এ বলে গেছেন ৩২২ বি সি এর দিকে " স্বয়ংক্রিয়তা একদিন দাসের প্রথা বিলোপ করবে এবং একদিন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি মানুষের সমান কর্মক্ষম হবে।"

No comments