অন্ধকারের গল্প


এত রাতে হাটাহাটির অভ্যাস কখনও ছিল না। ছেলে বেলায় এই সময় গুলোকে খুব মিস করতাম। গভীর রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার তেমন উপায় ছিল না। আশেপাশের গ্রামে ওয়াজ মাহাফিলের সুবাদে মাঝে মাঝে এই রাতগুলোর দর্শণ পেতাম।
অথচ, এই রাতগুলো এখন কেবল আমার। চাঁদ আর তারাগুলোকে বুকে নিয়ে দাড়িয়ে থাকা আকাশটা, কিংবা অন্ধকারে ঘিরে থাকা ভূতুড়ে গাছগুলো, অথবা ঝাঁপসা পথ, চাইলেও ওদেরকে একা ফেলে রেখে ঘুমাতে পারি না।
অন্ধকারে স্নান করি, আবার জ্যোৎস্নাতে ও গা ভেজাই। এই সব রাতগুলোর মধ্যে কি ভীষণ সৌন্দার্য লুকিয়ে আছে। অনুভব করার চেষ্টা করি। ভুলে যায় সব জাগতিক দুঃখ, কলহ আর গ্লানিগুলো।
ভাবতে ভয় হয়, একদিন এই অগোছালো দিনের সমাপ্তি নেমে আসবে। অথচ, আমি কখনও আর গোছালো হতে পারবো না!
এমন অন্ধকার কিংবা জ্যোৎস্না মাখা খুব গভীর রাতে অচেনা পথে চলতে চলতে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করে।
ও অন্ধকার, বিশ্বার করো, সংসারের মোহ আমাকে কোনদিনও আটকিয়ে রাখতে পারবে না। হারিয়ে ফেলা অতীত আমায় ফিরিয়ে নিতে পারবে না। আমার চলার পথে তুমিই একমাত্র সঙ্গী। তোমার সব কালো আমার গায়ে মাখিয়ে দাও। অভিমানী আমার মনের কালো গুলোর কিছুটা যদি তবুও ঘোচে।
এভাবেই চলতে চাই, অনন্ত কাল! অন্তত যতদিন বেঁচে থাকি। অবহেলা করে আমাকে কখনও তাড়িয়ে দিও না।
আমার কোন বাড়ি নেই, ঠিকানা নেই, গন্তব্য নেই।
আমি এভাবেই হাটতে চাই, ছুটতে চাই, দিগন্তের পথে হারিয়ে যেতে চাই।
খুব করে বলতে ইচ্ছা করে, অন্ধকার তুমি দিনের সূর্যটাকে ঢেকে রাখ, তোমার সব কালো মিলিয়ে কৃষ্ণগহ্বর তৈরি কর, সব আলো তোমার গভীরে লুকিয়ে ফেল। আমার শুধু রাত্রী চাই, খুব গভীর রাত্রী। যেখানে কেউ কাউকে চিনবে না। যেখানে কেউ কারও আপন হতে পারবে না। যেখানে কেবল অনিশ্চিত গন্তব্য, অধরা নিলীমা।

No comments