অমরত্বের খোজে (প্রথম পর্ব)
আনমনে হাটতে থাকা ছেলেটি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছে। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহের কোন কিছুর উপরই তার নিয়ন্ত্রন নেই। খুব ইচ্ছা করছে অতীতের স্মৃতি নিয়ে ঘাটাঘাটি করতেে। কিন্তু একি! সে তো সবকিছুই ভুলে বসে আছেে। চারপাশের অন্ধকারচ্ছন্ন পরিবেশ তাকে প্রচন্ড রকমের আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছেে। ভীষণ ঘামতে শুরু করেছে ছেলেটাে। যতটুকু মনে পড়ে, অনেকক্ষণ ধরেই সে হাটছেে।
কিন্তু
তার গন্তব্য কোথায়!
কোথায়
বা যেতে চাই সে!
সম্ভাবত
হাটার পিছে সমস্ত শক্তিটাই ব্যায় করে ফেলেছে। কিছুতেই যেন পথ ফুরাতে চাই না। কানের কাছে অসংখ্য মানুষ চিৎকার করছে। কি যেন বলছে। স্পশ্ট কিছুই বোঝা যায় না। নিজেরকে সামলাতে ব্যস্ত
ছেলেটা। নিজের অস্তিত্বকে খজে পেতে মরিয়া সে।
-নাহ! এভাবে তো আর চলে না! আমি কি এমন ছিলাম! আমার কোন
অতীত নেই! আমি এখন কোথায়? কোথায় বা যাচ্ছি? আচ্চা, আমি এমন করছি কেন!
হটাৎ একটু চেতনা ফিরে এল। একটু একটু নিজেকে চিনতে পারলো। হ্যা, তার নাম নাঈম। তার একটা সুন্দর জীবন ছিল। বাবা ছিল, মা ছিল, আরও.. নাহ! আর কিছু মনে পড়ে না।
কিছুতেই বিষ্ময়ের ঘোর কাটছে না!
চারপাশে ঘন কালো জঙ্গল। এই জঙ্গলের ধার বেঁয়ে বয়ে চলা
পথটা দিয়েই সে হেটে চলেছে।
নাহ! নিজের উপর তার কোন নিয়ন্ত্রন নেই! আবার নিজেকে ভুলে
গেছে সে। সহসা একটা নতুন আতঙ্ক ভর করল ছেলেটার। বোধহয় সে মারা গেছে। মৃত্যুর পরের জীবন তাহলে এমনই হয়। কিন্তু..
কি সে কিভাবে মারা গেল? নাহ! তাকে জানতেই হবে।
আপাতত, তেমন কোন কারন মনে পড়ছে না। হয়তো ঘুমের ঘোরেই এই অবস্থা।
আপাতত, তেমন কোন কারন মনে পড়ছে না। হয়তো ঘুমের ঘোরেই এই অবস্থা।
-এখন আমি কি করছি।
আমার তো একটা দায়িত্ব ছিল। কিছুতেই
মনযোগ হারালে চলবে না! আমার গন্তব্যে আমাকে পৌছাতেই হবে। আমি নিজেকে ভুলে যাচ্ছি কেন! নিজেকে হারিয়ে ফেললে
সব কিছু এলমেল হয়ে যাবে তো।
বিষ্মেয়ের ঘোর একটু কেটে গেল। বুঝতে পারলো সে কোথাও যাচ্ছে। পরিচিত কোন জায়গায়।
-আমি কি তাহলে ঘুমের ঘোরে হাটছি। ছিঃ! এটা কেমন কথা।
আমারতো এমন কোন অসুস্থতা ছিল না। কোন উল্টাপাল্টা
কিছু করে ফেলিনি তো!
- আচ্চা, আজ তো আযাদের বার্থডে ছিল। হ্যা, সেখানে আমারও যাওয়ার কথা ছিল। এখন তো রাত।
তাহলে আমি কি সেখানে যায় নি!
-না। আমি তো যাবার জন্য বের হয়েছিলাম। তারপর...
-তারপর তো আর কিছু মনে পড়ে না। নাহ! আমাকে মনে করতেই হবে। কি ঘটেছে আজ? কেন এমন হচ্ছে?
-তারপর তো আর কিছু মনে পড়ে না। নাহ! আমাকে মনে করতেই হবে। কি ঘটেছে আজ? কেন এমন হচ্ছে?
-নাহ! কিছুই মাথায় আসে না তো! আমাকে স্থির হতে হবে। ঠান্ডা
মাথায় ভাবতে হবে।
-এইতো তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধার ঘেষে খুব চেনা একটা রাস্তা
দিয়ে হাটছে। কিন্তু এখন কেন! এখন তো অনেক রাত!
-আচ্চা, আমি তো আযাদের বার্থডে পালন করতেই বের হয়েছিলাম। মানিক, তপন, সোহেল ওরাও ছিল। আজ রাত ১২টায় কেক কেটে বার্থডে সেলিব্রেট করার কথা ছিল।
-বার্থডে তো সেলিব্রেট করেছি। সবাই মিলে কেক কেটেছি। ডিম ছুড়ে মাখামাখি করেছি। হুমম, এখনও গায়ে ডিমের গন্ধ লেগে আছে।
-আচ্চা, বার্ডডে সেলিব্রেট করার পর কোথায় গেছিলাম! এখন আমি এখানে কি করে?
-নাহ, মনে পড়ে না! কিন্তু, আমাকে মনে করতেই হবে।
-হ্যা, একটু একটু মনে পড়ছে।
-আচ্চা, আমি তো আযাদের বার্থডে পালন করতেই বের হয়েছিলাম। মানিক, তপন, সোহেল ওরাও ছিল। আজ রাত ১২টায় কেক কেটে বার্থডে সেলিব্রেট করার কথা ছিল।
-বার্থডে তো সেলিব্রেট করেছি। সবাই মিলে কেক কেটেছি। ডিম ছুড়ে মাখামাখি করেছি। হুমম, এখনও গায়ে ডিমের গন্ধ লেগে আছে।
-আচ্চা, বার্ডডে সেলিব্রেট করার পর কোথায় গেছিলাম! এখন আমি এখানে কি করে?
-নাহ, মনে পড়ে না! কিন্তু, আমাকে মনে করতেই হবে।
-হ্যা, একটু একটু মনে পড়ছে।
বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে কি যেন খেয়ে ফেলেছিল। তারপর থেকেই এই অবস্থা। নিজেকে সামলানোর বহু চেষ্টার পরও সফল হতে পারে নি সে। মাঝে মাঝেই স্মৃতি হারিয়ে ফেলছে। আর অবচেতন মনে হেটে চলছে।

No comments